হোমিওপ্যাথির জনক ডা: স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন মুসলমান

ইসলাম গ্রহণ করায় জার্মান ত্যাগ করতে বাধ্য হন স্যামুয়েল হ্যানিম্যান



সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতায় ভীষণ ভাবে আক্রান্ত হয় সত্য চাপা দিতে অত্যন্ত পারদর্শী পশ্চিমা জগৎ যতদিন সম্ভব সম্রাট নেপোলিয়ান, মরিস বুকাইলি, নীল আর্মস্ট্রংসহ আরো অনেক মনীষীর ইসলাম গ্রহণের সংবাদকে চাপা দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু সত্য কখনো গোপন থাকে না। কালের প্রবাহে কোন একদিন প্রকাশিত হয়ই। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সময় ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কর্তা ডাক্তার স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ইসলাম গ্রহণের সংবাদটি চাপা পড়ে আছে।  





নিম্নোক্ত বর্ণনা টি গবেষক ও প্রাবন্ধিক ডক্টর হুদহুদ মোস্তফা(লন্ডন) কর্তৃক প্রকাশিত কলাম (পত্রিকা) হইতে সংগৃহীত এবং হুবহু তুলে ধরার চেষ্টা করেছি....

১৯৯৮ সালে লন্ডনে এক সেমিনারে আমার সাক্ষাৎ ঘটে ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম হ্যানিম্যান এর। 
বিজ্ঞানী ডাক্তার স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের এক উত্তর পুরুষ তিনি।  ধর্মীয় দিক থেকে ক্যাথলিক খ্রিস্টান।  কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডক্টর স্যামুয়েল হ্যানিম্যান গবেষণার একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি আমৃত্যু ইসলামী বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত  ছিলেন। 
যে কারণে তিনি নিজ জন্মভূমি স্বজাতি আত্মীয়-পরিজন ত্যাগ করে দ্বিতীয় স্ত্রী মাদাম ম্যালানীকে  নিয়ে প্যারিসে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মাদাম ম্যালানীও স্বামীর সাথে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।  হ্যানিম্যানের অনুসন্ধান স্পৃহা অত্যন্ত প্রবল ছিল,  তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে ব্যাপক জ্ঞান আহরণের জন্য বহু ভাষা শিক্ষা করেন।  পুরাকালের বিভিন্ন সভ্যতার যুগে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করতে গিয়ে ইসলামের স্বর্ণযুগের আবিষ্কার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞান লাভের জন্য আরবী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। 

তদুপরি আরব বণিক ও পরিব্রাজক দের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের ধর্ম সম্পর্কে অবগত হন...আরবি ভাষায় দক্ষতার কারণে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও তিনি অধ্যায়ন করেন।  ক্রমে তিনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এক শুভক্ষণে ইসলামের কালেমা পাঠ করে মনেপ্রাণে মুসলমান হয়ে যান। এই ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে হ্যানিম্যানের আত্মীয়-স্বজনরা তার প্রতি বিরূপ হয়ে যান।  চির পরিচিত পরিবেশ তার বিরুদ্ধে চলে যায়। শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে তার সকল সহায়-সম্পদ উত্তরাধিকারী ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বিলিবণ্টন করে দিয়ে ইসলামে নবদীক্ষিত স্ত্রী কে নিয়ে প্যারিসের পথে হিজরত করেন।  



এই সময়টা ছিল ১৮৩৫ সালের জুন মাস। তারা তাদের জীবদ্দশায় আর কখনো জার্মানিতে ফিরে যাননি।  হিজরত নবীর সুন্নত। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে জার্মান বিজ্ঞানী হ্যানিম্যানকেও সেই সুন্নতের অনুসরণ করতে হয়।  ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম হ্যানিম্যান কিছু মূল্যবান তথ্য দিয়ে আমাকে চির কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছেন। 


প্রথমেই তিনি আমাকে বলেছিলেন লন্ডনস্থ হ্যানিম্যান মিউজিয়ামে যেতে ( ঠিকানা : হ্যানিম্যান মিউজিয়াম,পাউইজ প্যালেস,গ্রেট,অর্মন্ড স্ট্রিট,লন্ডন,ডাব্লিউ-সি।)  সেখানে হ্যানিম্যানের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আছে।  বই-পুস্তকের এক বিরাট সংগ্রহ আছে,  এরমধ্যে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে শুরু করে মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী আবু আলী ইবনে সিনা রচিত আল-কানুন ফিততিব-সহ শতাধিক আরবি গ্রন্থ রয়েছে।

 ব্যবহৃত জিনিস পত্রের মধ্যে রয়েছে মসজিদের নকশা করা জায়নামাজ, মূল্যবান পাথরের তসবিহ, একটি টার্কিশ টুপি।  ব্যবহৃত জায়নামাজে সেজদার চিহ্ন স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।  এসব নিদর্শন আমার মনে গভীর দাগ কাটে।  বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান সম্পর্কে আমি লেখাপড়া অনুসন্ধান শুরু করি। আমার গবেষণার চার বছর চলছে[ পত্রিকায় প্রকাশকাল থেকে ] প্রবন্ধে আমি এ পর্যন্ত আমার গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যাদি সংক্ষেপে উল্লেখ করার চেষ্টা করব...
এ পর্যন্ত আমি নিন্মলিখিত তথ্যগুলোর সত্যতা ও বাস্তবতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি। 

১ । ডাক্তার স্যামুয়েল হ্যানিম্যান তার কোন লেখায় দৃষ্টবাদের মূলতত্ত্ব [ TRINITY ] সম্পর্কে কখনো উল্লেখ করেনি,  বরং এক সৃষ্টিকর্তা, Creator প্রভৃতি একক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করেছেন।

২। রিচার্ড হ্যাল কর্তৃক লিখিত হ্যানিম্যানের জীবনী গ্রন্থ Samuel hahnemann his life and work- এর দ্বিতীয় খন্ডের ৩৮৯ পৃষ্ঠায় এক রোগীকে লেখা পত্রে উল্লেখ করেনঃ   we feel then we are resting in the friendship of the only one.  Do you desire any other religion ?     There is  none. Everything else is a miserable low human conception full of superstition a true destruction of humanity.
তিনি একই পৃষ্ঠায় উল্লেখিত অপর এক পত্রে  লেখেন. 
I acknowledge with sincere thankfulness the infinity Mercy of the one great giver of all good.
৩৮৭  পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে: 
 I shall not become a Catholic and I would prefer not even to Limit myself in the Creed of the protestant,  but rather to hold with you to Deism only a higher sense  is taught by the sect of that name as that is the faith which most nearly satisfies .
এই faith  যা nearly satisfies  ইসলাম ছাড়া কি হতে পারে ?

৩।  ডক্টর আর ই ডাজেন কর্তৃক সংগৃহীত হ্যানিম্যান লেসার রাইটিং গ্রন্থের ৫৭১,৫৭৯ প্রভৃতি পৃষ্ঠায় আরবি লেখা উদ্ধৃতি দেয়া আছে যা হ্যানিম্যানের আরবি ভাষায় গভীর পন্ডিত এর প্রমাণ বহন করে। 
৪।    হ্যানিম্যানের ইসলাম গ্রহণ এবং জার্মানি ত্যাগের পর তিনি আর কখনো কোথাও তাঁর পিতৃ প্রদত্ত নাম 'ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডারিক'   শব্দ দুটি ব্যবহার করেননি। যে শব্দ দুটো খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীর পরিচয় বহন করে।  প্যারিসে চলে যাবার পরে চিঠিপত্র সহ সর্বত্র কেবল "স্যামুয়েল হ্যানিম্যান" লিখতেন।  স্যামুয়েল ইসরাঈল বংশীয় একজন নবীর নাম, যা একজন মুসলমানের নাম হিসেবে গ্রহণযোগ্য।  একথা তার খ্রীষ্টান ধর্ম ত্যাগের আর একটি শক্তিশালী প্রমাণ। 

৫।   Allgem Anzeig Der Deutschen ( Vol.XII.No.6 ) ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ম্যাগাজিনের 245 পৃষ্ঠার স্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত হয়েছে:             মাদাম ম্যালনী তার স্বামী হ্যানিম্যানের মৃত্যুর পূর্ব অসিয়তের কারণে কোন অমুসলিমকে তার দাফনে অংশগ্রহণ করতে দেননি ।   
  তিনি দাফনের দিনক্ষণ সবে গোপন রেখে কোন মুসলমানের সাক্ষাৎ পাবার আশায় অপেক্ষা করছিলেন।  হ্যানিম্যানের মৃত্যু ২ জুলাই ১৮৪৩ তারিখে। কোন মুসলমানের সাক্ষাৎ না পেয়ে মাদাম নিজে তার সমবিশ্বাসী দুইজন ব্যক্তির সহযোগিতায় চিকিৎসাবিজ্ঞানী হ্যানিম্যান কে ৯ দিন পর ১১ জুলাই কবরস্থ করেন। হ্যানিম্যানের ইচ্ছা অনুযায়ী প্যারিসের অখ্যাত 'মাউন্ট মারাট্রির' গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।  এটি খ্রিস্টানদের গোরস্থান হলেও একটু আলাদা স্থানে। 

 পূর্বেই উল্লেখ করেছি তার সমাজের প্রচলিত খ্রীষ্টান ধর্ম ত্যাগের কারণে জার্মানিতে পরিচিত পরিবেশ তার বিরুদ্ধে চলে যায়।  নিরাপত্তা ও শান্তির সন্ধানে তিনি ১৮৩৫ সালের জুন মাসে ৮০ বছর দুই মাস বয়সে তার পৈত্রিক দেশ জার্মানি ত্যাগ করেন। আর কখনো তিনি বা তার স্ত্রী ফ্রান্স থেকে জার্মানিতে ফিরে যাননি।  এতে প্রমাণিত হয় ইসলাম গ্রহণের ফলে বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান ও মাদাম ম্যালানীর জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা জার্মানিতে কতটুকু বিপন্ন ছিল। 


বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান সাহিত্যের যতদূর গভীরে আমি পৌছতে পেরেছি ততটুকুর মধ্যে কোথাও আমি ইসলামের নীতি আদর্শের পরিপন্থী কোন কিছুই খুঁজে পাইনি।   আমি উপলব্ধি করেছি হ্যানিম্যানের রচনাবলী ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইসলামী আদর্শের গভীর ছাপ বিদ্যমান।  

 ইসলাম বলে নিশ্চয়ই "আমার আরাধনা, আমার ত্যাগ, আমার জীবন,  আমার মৃত্যু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য উৎসর্গিত" -"আল কোরআন" । 
সেই সুরে সুর মিলিয়ে হ্যানিম্যান বলেছেন আমি আমার জীবনে কখনো স্বীকৃতি চাইনি, মানবকল্যাণে আমার আবিষ্কৃত সত্যের জন্য আমি স্বার্থপরতা মুক্তভাবে যার বিকাশ ঘটিয়েছি  সমগ্র বিশ্বের জন্য, যা সর্বোচ্চ সত্তার নিমিত্তে উৎসর্গিত।  
|| Life and work of Hahnemann- by Richard Raehl /355, C-1   ||

                                                          ডক্টর হুদহুদ মোস্তফা (লন্ডন)


 গবেষক ও প্রাবন্ধিক

হোমিওপ্যাথির জনক ডা: স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন মুসলমান হোমিওপ্যাথির জনক ডা: স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ছিলেন মুসলমান Reviewed by mydawn.top@gmail.com on September 15, 2019 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.